কক্সবাজারে আবারো সক্রিয় মানব পাচারকারীরা

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র

আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারীরা। বিশেষ করে কক্সবাজার ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা অবস্থান করছেন, সেসব এলাকায় মানব পাচারকারীদের নতুন করে পদচারণার খবর পাওয়া গেছে। সমুদ্রপথে এর আগে যারা মানব পাচার করেছে তাদেরও আনাগোনা শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের অনেকেরই বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা থাকলেও তারা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় সূত্র বলেছে, এসব মানব পাচারকারীর টার্গেট অসহায় রোহিঙ্গারা।

স্থানীয় সূত্র বলেছে, দীর্ঘ দিন ধরে মানব পাচারকারী চক্র কক্সবাজার এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এদের মূল টার্গেটই হচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় মানব পাচারের ঘটনা ঘটে। এক দিকে মানব পাচার, অন্য দিকে প্রতিবেশী দেশ থেকে ইয়াবার চালান আমদানির সাথে এ চক্রের সদস্যরাই জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের হয়। এমনকি এসব চক্রের অনেক সদস্য বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়। তাদের সাজাও হয়। সূত্র জানায়, ওই সব চক্রের সদস্যরা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের অনেক সদস্যকে এখন নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজারে প্রকাশ্যেই দেখা যায়। এরই মধ্যে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই লাপাত্তা বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্প থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তাদেরকে মিয়ানমারের গোয়েন্দারা ফুঁসলিয়ে নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের মিডিয়ার কাছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও নাডালা বাহিনীর নির্যাতন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাগর পথে যে মানব পাচারের ঘটনা ঘটে তার বেশির ভাগ কক্সবাজার ও উখিয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে হয়ে থাকে। সাধারণত সাগর যখন শান্ত থাকে তখনই মানব পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এখন সাগর শান্ত হয়ে আসছে। আর এখনই মানব পাচারকারীরা তাদের তাদের কাজ গোছানো শুরু করবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মানব পাচারের জন্য টেকনাফের সাবরাং, বাহারছড়া, উখিয়ার জালিয়াপালং, সাবরাংয়ের মুন্ডার ডেইল, আলীর ডেইল, খুরের মুখ, কচুবনিয়া, কাঠাবনিয়া বীচ, বাহারছড়ার শামলাপুরসহ বেশ কয়েকটি স্পট রয়েছে যেখান থেকে মানব পাচার হয়ে আসছে। অতীতে এসব স্পট দিয়েই ট্রলারে সমুদ্রপথে মানব পাচারের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, মঞ্জুর আলী, আবদুল জালাল, রাসেল, জসিম উদ্দিন রাব্বানী, মো: হাসান, আক্তার কামাল, হেলাল, মো: ধলু হোসেন, মো: ইউনুছ, ইসমাইল, ফিরোজ আহমদ, দেলোয়ার, মো: সাহাব মিয়া, মো: শরীফ হোসেন, শরীফ হোসেন ভুলু, সাহেদুর রহমান নিপু, হামিদ হোসেন, জহির উদ্দিন ওরফে কানা জহির, মৌলভী আজিজ, নূর হাকিম মাঝি, নূর মোহাম্মদ মেম্বার, মৌলভী বশির ওরফে ভাইলা, নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত, আবদুল হামিদ, গুরা মিয়া, মো: কাসেম ওরফে জিমা কাসেম, মো: ইসলাম ওরফে বাগু, জাফর আলম, আক্তার কামাল, শাহেদ কামাল, আবদুর গফুর, হেবজ রহমান ওরফে হেবজ মাঝি, মো: নুরুল হুদা, মো: নুরুল কবির ও আমান উল্লাহ ওরফে আনু মানব পাচারের সাথে জড়িত। বাকি মানব পাচারকারীরা হলোÑ বেলাল উদ্দিন, নূর হোসেন, নুরুল আলম, এনায়েত উল্লাহ, মো: সেলিম, মো: হোসেন, জাফর আহমদ, মো: শফিক, আবু তাহের, মো: জাফর, আলী মাঝি, সামসুল আলম, মো: সাব্বির আহমদ, মো: কামাল হোসেন, মো: হাসান, মো: কবির হোসেন, মো: কবির হোসেন (পিতা-নূর) সাদ্দাম, আবুল কালাম, মো: শরীফ, মো: লিটন, মো: আবুল হাসেম, মো: দলিল আহমদ, সিদ্দিক আহমদ, ফয়েজ, নুরুল ইসলাম ওরফে কালা পুতু, জাহাঙ্গীর, মীর আহমদ, মো: শাকের মাঝি, নুরু মাঝি, হাফেজ মোক্তার, মো: সৈয়দ আলম, আবদুর রহিম, আলী আহমদ ওরফে আলী বলি, নুরুল ইসলাম মাঝি, আইয়ুব আলী মাঝি, আল মাসুদ, জাহাঙ্গীর, সোহাগ আবদুল্লাহ, কবির ওরফে ডা: কবির, মো: আলম ওরফে মাত আলম, এনায়েত উল্লাহ, মো: শামসুল আলম, আবদুস সালাম ওরফে আবদু কোম্পানি ও আজিজুল ইসলাম ওরফে পুতুইয়া। স্থানীয় সূত্র জানায়, মানব পাচারের সঙ্গে এখানকার দু-একজন জনপ্রতিনিধিরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানান, মানব পাচারকারীদের জন্য এবারে সুযোগ বেশি। অনেক রোহিঙ্গা রয়েছেন যারা এখনো নিবন্ধনের আওতায় আসেননি। তারা পাচারের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ দিকে সমুদ্রপথ দিয়ে মানবপাচারের বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, গত এক বছরে এই রুট দিয়ে কোনো মানব পাচারের ঘটনা ঘটেনি। মানব পাচার বন্ধে এখানে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট রয়েছে; যে কারণে মানব পাচারকারীরা এখান আর সুবিধা করতে পারছে না।

সুত্রঃ নয়া দিগন্ত