অনেকেই জিজ্ঞেস করেন আমি অমুসলিমদের দাওয়াত দিতে চাই। অমুসলিমদের দাওয়াত দিতে কি কি যোগ্যতা থাকার দরকার?
অমুসলিমদের দাওয়াত দেওয়ার জন্য অনেক যোগ্যতার বা ডিগ্রির দরকার হয় না । আসুন জানি বিস্তারিত ……………
১. উম্মতের দরদ ও অস্তিরতা ।
২. শেষ রাতের চোখের পানি। উম্মতকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য আহাজারি করা।
৩. দু’আর মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে কবুল করিয়ে নেয়া।
স্থান কাল পাত্র বিশেষ মাদউর (আহ্বানকৃতের) অবস্থানের দিকে খেয়াল করে কিছু মূলনীতি এখানে পেশ করা হলো যার উপর আমল করা একজন দা‘য়ীর উপর খুবই জরুরি।
১। নিয়তকে শুদ্ধ করবে। অর্থাৎ শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দাওয়াত দিবে।
২। নিজের দাওয়াতের ওপর ১০০ ভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রাখবে।
৩। বিশেষ করে হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন গ্রুপের ও আকিদা-বিশ্বাসের ওপর ধারণা রাখতে হবে।
৪। খুব হিতাকাক্সিক্ষতা ও মুহাব্বতের সাথে স্থান-কাল পাত্র ভেদে প্রয়োজনীয় কথা বলবে।
৫। হিন্দুভাইদের পরিভাষায় তাদের সাথে কথা বলা। যেমন স্বর্গ (জান্নাত) নরক (জাহান্নাম) ইত্যাদি।
৬। জাতীয়তা অর্থাৎ আমরা একই পিতা-মাতার সন্তান। আদম হাওয়া সকলের পিতা-মাতা। আর পিতার সন্তান ভাই হয়ে থাকে, এভাবে ভাইয়ের সম্পর্ক বের করে কথা শুরু করা। প্রথমে তাওহীদের ব্যাপারে কথা বলা। এর পর কথার মোড় ঘুরিয়ে আখেরাতের কথা শুরু করা এবং আখেরাতের লাভ ক্ষতি বোঝানো। তারপর রেসালাতের কথা শুরু করা।
৭। দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। যেমন নামায পড়ে দুআ করা।
৮। প্রমাণবিহীন কথা পরিহার করা, শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ প্রমাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৯। মাদউর (আহ্বানকৃত ব্যক্তির) বুদ্ধির পরিধি ও তার চিন্তাধারার প্রতি লক্ষ্য রাখবে।
১০। দা‘য়ী শুধু আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিবে।
১১। তাড়াহুড়া পরিহার করবে
১২। দা‘য়ীর আমল হবে পরিপূর্ণ সুন্নত মুতাবিক, দা‘য়ী যেই জিনিসের দিকে দাওয়াত দিবে তার ওপর নিজের আমল থাকতে হবে, যাতে সে অন্যের জন্য আদর্শ হতে পারে।
১৩। দা‘য়ীর উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবে এবং দাওয়াতের কৌশল অবলম্বন করবে। কেননা এটা তার দাওয়াত কবুল হওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
১৪। দা‘য়ীর মাঝে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। দা‘য়ীর জন্য জরুরি যে, সে দৃঢ় বিশ্বাসী হবে। নিজের দাওয়াতের আসর (পতিক্রিয়া) এবং নিজের সম্প্রদায়ের হেদায়াত থেকে নিরাশ হবে না, মন না ভাঙ্গা যদিও দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। তাই আম্বিয়াদের জীবনী উত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা, যেমন নূহ আ. এর ঘটনা।
১৫। দা‘য়ী ইলম অনুযায়ী আমল করবে, একজন দা‘য়ীর জন্য জরুরী সে যা শিখবে তার ওপর আমল করবে।
১৬। সর্বসম্মত বিষয় দ্বারা আলোচনা শুরু করা।
১৭। ক্রোধ বর্জন করবে, ধৈর্য ধারণ করবে।
১৯। নরম ভাষায় কথা বলবে। অশ্লীলতা ও রুক্ষতা পরিহার করবে।
২০। উপস্থিত প্রমাণ না থাকলে তাহকীক (বিশ্লেসন) ও গবেষণার জন্য সময় নেবে।
২১। যুক্তিহীন বিতর্ক থেকে বেঁচে থাকবে।
২২। প্রতিপক্ষের কথা মনোযোগসহ শুনবে, তার প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর দিবে।
২৩। মাদউর (আহ্বানকৃতের) বড়দের (দেবদেবীদের) ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করবেনা।
২৪। নিজের বিপরীত অবস্থান সঠিক হলে সেই সত্য স্বীকার করে নিবে।
২৫। তাদের জন্য বদদুআ করবেনা।
২৬। গর্ব অহংকার পরিত্যাগ করে নম্রতা গ্রহণ করবে।
২৭। দা‘য়ীর সমস্ত ইবাদত হবে শুধু আল্লাহর জন্য।
২৮। দা‘য়ীর মধ্যে পরিপুর্ণ ইখলাছ থাকতে হবে।
২৯। দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করবে ও মাদউকে তুচ্ছ মনে করবে না।
৩০। দা‘য়ী মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে ও মেহমান প্রিয় হবে।
৩১। স্মরণ রাখবে যে, হেদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
৩২। দাওয়াতের পদ্ধতি সীরাত পাঠের মাধ্যমে নবুওয়াতের নূর হতে গ্রহণ করতে হবে।
৩৩। দা‘য়ীর মধ্যে স্নেহ ও মমতা থাকতে হবে।
৩৪। দা‘য়ীকে খুবই বিনয়ী হতে হবে।
৩৪। দা‘য়ীকে ক্ষমাশীল হতে হবে।
৩৫। দা‘য়ীকে সহনশীল ও ধৈর্যশীল হতে হবে।
৩৬। দা‘য়ীকে দুনিয়া বিমুখ হতে হবে।
৩৭। দা‘য়ীকে মু‘আমালার মধ্যে তাকওয়া অর্জন করতে হবে। তথা হালাল রুজী অর্জন করতে হবে।
৩৮। দা‘য়ীকে তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।
৩৯। দা‘য়ীকে অন্যের দোষ ক্রটি গোপন করতে হবে।
৪০। দা‘য়ী অন্যকে নিজের চেয়ে উত্তম মনে করবে, নিজেকে ছোট মনে করবে।
৪১। দাওয়াতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক।
৪২। দা‘য়ী তাহাজ্জুদে আল্লাহর কাছে খুব কান্নাকাটি করবে।
৪৩। মাদউর (আহ্বানকৃতের) হৃদয়কে দাওয়াতের টার্গেট বানাবে।
৪৪। দা‘য়ীর জন্য আরও একটি মৌলিক গুণ বা দাওয়াতের বুনিয়াদী মূলনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম মূলনীতি। হলো এই যে, দা‘য়ী কোনো লোভ-লালসা ছাড়াই দাওয়াতের কাজ করবেন। যেমন পবিত্র কুরআনে নবীদের ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখিত হয়েছে যে, তাঁরা নিজ নিজ সম্প্রদায়কে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন وما اسئلكم عليه من اجر -“আর আমি এ দাওয়াতের বদলে তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাই না।” আর না তোমাদের কোনো জিনিসের প্রতি আমার লোভ আছে।
দা‘য়ীর আরো একটি বৈশিষ্ট্য
আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করা। এক পর্যায় শাহাদাতের আগ্রহ সৃষ্টি হলে, বড় উপকার এটাই হবে, দা‘য়ীর দৃষ্টি পার্থিব বস্তু থেকে সরে আল্লাহ তাআলার মহান সত্তার প্রতি আকৃষ্ট হবে, যা দাওয়াতী কাজের জন্য একটি মৌলিক শর্ত। এজন্য যার দৃষ্টি থাকবে সম্পদের উপর কিংবা নিজের চেষ্টার ওপর অথবা নিজের আত্মার বা সাফল্যের ওপর তাকে এটা বোঝা উচিত পৃথিবীর সরদার নবীজীর প্রিয় ও বিশ্বস্ত চাচা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেছিলেন –
إِنَّكَ لاَ تَهْدِى مَنْ أَحْبَبْتَ وَلٰكِنَّ اللَّهَ يَهْدِى مَن يَشَآءُ
অর্থ: “আপনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করতে পারবেন না বরং আল্লাহ্ যাকে চান তাকে হেদায়েত করেন।” -সূরা কাসাস:৫৬
নওমুসলিমদের কালেমা পড়ানোতে বিলম্ব না করা
একটি জরুরি আবেদন এই যে, যে সকল ভদ্রলোক স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করতে আসেন কিংবা আপনার দাওয়াতে প্রভাবিত হয়ে মুসলমান হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাদের কালেমা পড়ানো এবং মুসলমান বানানোর কাজে বিলম্ব করবেন না। আর তার থেকে ইসলাম কবুল করার অজুহাতের ব্যাপারে ইতস্তত করবেন না বরং তাকে তাড়াতাড়ি কালেমা পড়িয়ে দিন।